বাঘায় ইমাম নিয়োগে অন্যের নামে স্ট্যাম্প , অভিযোগ স্বীকার করলেন স্ট্যাম্প ক্রেতা

Reporter
হাবিল উদ্দিন রাজশাহী প্রতিনিধি | রাজশাহী, বাঘা
প্রকাশিত: 3:45 PM, July 24, 2026
বাঘায় ইমাম নিয়োগে অন্যের নামে স্ট্যাম্প , অভিযোগ স্বীকার করলেন স্ট্যাম্প ক্রেতা
🖼️ ফটো কার্ড তৈরি করুন

বাঘা (উপজেলা) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতেপুর বাউসা বাজার জামে মসজিদের ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৫০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অন্যের নাম ব্যবহার করে অঙ্গীকারনামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের (স্ট্যাম্প ভেন্ডার, সদর) মাধ্যমে কেনা ৫০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে বাউসা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের নাম ও গ্রামের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না এবং তার কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, মসজিদের ইমাম নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা চলাকালে মসজিদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল স্ট্যাম্পটি দেখালে নজরুল ইসলামের নজরে বিষয়টি আসে। পরে তিনি খোঁজখবর নিয়ে এ ঘটনায় একই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। তবে তিনি বর্তমানে রাজশাহীতে থাকেন।

মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজারের মসজিদের ইমাম নিয়োগের জন্য ৫০ টাকার একটি স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা করা হয়েছে, যা আমার নামে তোলা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার ও আমার পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এমন কাজ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আমার কাছে ভুল স্বীকার করায় বিষয়টি আর বাড়াইনি। কিন্তু বারবার এমন কাজ করার উদ্দেশ্য কী, তা আমি বুঝতে পারছি না। যারা এ কাজ করেছেন তারা নিয়মিত নামাজ পড়েন, তারপরও কীভাবে এমন কাজ করলেন, সেটি আমার বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম রুহুল আমিন বলেন, অঙ্গীকারনামা সম্পর্কে আমার তেমন ধারণা ছিল না। নিয়োগের আগে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর আমাকে জরুরি ভিত্তিতে রাজশাহীর পুঠিয়ায় ডাকা হয়। সেখানে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বলা হলে তাদের কথায় বিশ্বাস করে না বুঝেই স্বাক্ষর করি। পরে শুনেছি, স্ট্যাম্পটি নাকি নজরুল ইসলামের নামে কেনা হয়েছিল। যা তিনি জানেন না।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আব্দুল রাজ্জাক বলেন, সে সময় মসজিদে কোনো ইমাম না থাকায় এলাকার স্বার্থ বিবেচনা করে আমি নজরুল ইসলামের নামে স্ট্যাম্পটি কিনেছিলাম। তবে কেন নিজের বা অন্য কারও নামে স্ট্যাম্পটি কেনা হয়নি এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

তবে তিনি এটাও বলেন, নজরুল ইসলাম আমার ঘনিষ্ঠ মানুষ। সে কারণেই তার নামে স্ট্যাম্পটি নিয়েছিলাম।

আব্দুল রাজ্জাক দাবি করেন, এ কাজে তার সঙ্গে তার ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল, ভাইসম রব্বেল এবং এলাকার বাসিন্দা জেনেট সহ আরো কয়েকজন জড়িত ছিলেন।