

ধামরাইরের কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ দলিল দাতা ও গ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে,নকল নবিশ হয়েও জনৈক মান্নান নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে ওঠা শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট পুরো অফিস নিয়ন্ত্রণ করছে। সাব-রেজিস্ট্রার দলিল সই করার পর সেই মূল দলিল আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাই এই সিন্ডিকেটের প্রধান কাজ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন শত শত দলিল রেজিস্ট্রি হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকল খরচ পরিশোধের পর দলিল দাতার হাতে রসিদ তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, মান্নান সিন্ডিকেটের বাধার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রার দলিল সই করার পর তা সরাসরি রেকর্ড রুমে না গিয়ে চলে যায় মান্নানের হাতে। প্রতিটি দলিল ছাড়াতে ৫০০ থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ‘উপরি’ দিতে হয়। টাকা না দিলে দলিল আটকে রাখা বা সিরিয়াল পিছিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
সিন্ডিকেটের শক্তিশালী জাল
স্থানীয়রা জানান, মান্নানের এই অপকর্মের নেপথ্যে রয়েছে তার নিজস্ব একটি ক্যাডার বাহিনী ও দালালের সিন্ডিকেট। অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে তিনি এই সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছে চান মিয়া, মামুন, নজরুল সহ একাধিক ব্যক্তি।বালাম কপি না লিখে তারা এসব অকর্ম করে থাকেন।তাদের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মোহররার (দলিল লেখক) থেকে শুরু করে সেবাগ্রহীতারাও তটস্থ থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে এই দালালি ও চাঁদাবাজি চললেও রহস্যজনক কারণে মান্নান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন:
> “জমির রেজিস্ট্রেশন ফি দেওয়ার পরও মান্নানকে টাকা না দিলে দলিল পাওয়া যায় না। টাকা চাইলে বলে— ‘অফিসের খরচ আছে’। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। আমরা এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চাই।”
এই সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একজন নকল নবিশ হয়ে কীভাবে একটি সরকারি অফিসের নথি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং কার ছত্রছায়ায় তিনি এত বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন?
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।