ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪ ঘন্টার ব্যবধানে পিতা-পুত্রের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার ৫নং হরিপুর সদর ইউনিয়নের দনগাঁও গ্রামের মৃত্যু আব্দুল গফ্ফারের সন্তান ইয়াকুব আলী (৭৫) বৃহস্প্রতিবার রাত সাড়ে ৮টায় নিজ বাসভবনে এবং তার পুত্র আজগর আলী (৫৫) বৃহস্প্রতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় এম আব্দুর রহিম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করেনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পুত্র আজগর আলী হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। পিতা-পুত্রে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিরুল ইসলাম খান পিতা-পুত্র করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার সূত্রে জানাযায়, গত ২৫ জুন শুক্রবার উপজেলার ৫নং হরিপুর সদর ইউনিয়নের দনগাঁও গ্রামের মৃত্যু আব্দুল গফ্ফারের সন্তান ইয়াকুব আলী অসুস্থ অনুভব করলে প্রথমে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দিনাজপুর মেডিকেল হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঐদিনই তাকে এম আব্দুর রহিম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। দীর্ঘ ৮দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরেও তার শারীরিক অবস্থা উন্নতি না হলে গতকাল বৃহস্প্রতিবার রাতে তাকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে বাসায় নিয়ে আসা হয়। এরপর সে রাত সাড়ে ৮টায় মৃত্যু বরণ করেন।
অপরদিকে তার পুত্র হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং শীতলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলী গত ৩০ জুন বুধবার নিজ বাসায় অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রথমে তার করোনা পরীক্ষা করেন। তারও করোনা পজেটিভ আসে।
এরপর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এম আব্দুর রহিম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামশর্শ দেন। ঐদিনই রাতে তাকে এম আব্দুর রহিম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য মৃত্যু আব্দুল গফ্ফারের সন্তান ও ইয়াকুব আলীর বড় ভাই ইউনুস আলী (৮০) গত ২৪ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন।