শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
দেশব্যাপি জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ এস সি/ সমমান পাস। যোগাযোগঃ 01715247336

চবিতে নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উদযাপিত

চবি প্রতিনিধি / ৩৪ বার দেখা হয়েছে
নিউজ আপঃ বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,বলি খেলা, বউচি ও মোরগ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছর ১৪২৯ বরণ করে নিলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

আজ (১৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও শহরের চারুকলা ইন্সটিটিউটে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষ-১৪২৯।শহরে চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘুরে আবার চারুকলা ইন্সটিটিউটে এসে শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতারের নেতৃত্বে পহেলা বৈশাখে চবির স্মরণ চত্বর থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১১ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ মুছে গ্লানি,ঘুচে যাক জরা,অগ্নি স্নানে সূচি হোক ধরা’।শোভাযাত্রায় পাখির প্রতিকৃতি তুলে ধরা হয়। এছাড়াও বড় আকারের ফুল, মৌমাছি, পাতা ছাড়াও বাঘ ও পেঁচার প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় স্থান পায়।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরিন আখতার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.বেনু কুমার দে,রেজিস্ট্রার(ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল ইসলাম, প্রক্টর ড.রবিউল হাসান ভূঁইয়া,প্রক্টরিয়াল বডি,বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও কর্মকর্তা কর্মচারী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো স্ব-স্ব ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করে।মঙ্গল শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলার ঐতিহ্যের নানা অনুষঙ্গের প্রতিচ্ছবি সাপ, ময়ুর, হাতপাখা, মাছ, প্রজাপতি, লোকজ সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে পালকি, ঘোড়া, হাতি, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুনসহ বাঘ ও প্যাঁচার ছোট-বড় হরেক রঙের বিভিন্ন মুখোশ ফুটিয়ে তোলা হয়।

শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা গ্রামবাংলার কেউ কৃষক,কেউবা মাথায় তাথায় তালপাতার তৈরি টৌক্কা পড়ে,কেউবা গ্রাম্য বধূর বেশেসহ, বাহারি সাজে সজ্জিত হয়ে অংশগ্রহণ করে।

পরে সকাল ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষবরণের মূল মঞ্চে সূচনা সঙ্গীত ও বক্তৃতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপাচার্য অধ্যাপক ড.শিরিন আখতার ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.বেনু কুমার দে বক্তব্য রাখেন।

এসময় উপাচার্য বলেন,সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় যথাযথ গুরুত্বের সাথে জাতীয় দিবসগুলো পালন করে থাকে। ভবিষ্যতেও সকল জাতীয় দিবসে সবাই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করবে এমনটাই আশা করছি।”

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি রংতুলি ও কারুকার্যে খচিত বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ,ভুভুজেলা,হাতি,ঘোড়া,পাখি বাহারি রংয়ের জিনিস বিক্রি করতে দেখা যায়।

এছাড়া বেলুনের তৈরি মাছ,ঘোরা,পাখি মা বাবাদের সাথে আসা ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের হাতে দেখা যায়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল সংগীত বিভাগের পরিবেশনায় নৃত্য ও দলীয় সংগীত, লোক সংগীত। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু ভবনের সামনে খোলা জায়গায় ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাশে উন্মুক্ত মঞ্চে বলি খেলা, বউচি, মোরগ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়।

তবে চট্টগ্রামের অনেক জায়গায় জব্বারের বলিখেলা স্থগিত হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বলি খেলার আয়োজন করেছে কর্তৃপক্ষ।এজন্য দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বলিখেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান ও রানারআপ হয়েছেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী হিব্বান মুরাবী।

চবি বাংলা নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বলিখেলা বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটি বাংলার চিরায়িত লোক ঐতিহ্য।

বর্ষবরণে নানা আয়োজনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বলিখেলা বাড়তি আমেজ তৈরি করেছে। বলি খেলা ছাড়া আমরা শোভাযাত্রা, বউচি খেলা, মোরগ লাড়াই ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।’

পরে খেলায় বিজয়ীদের মাঝে বিকাল ৩টায় পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।


এই বিভাগের আরও খবর....

Google Sponsored Ads

এক ক্লিকে বিভাগের খবর