রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
দেশব্যাপি জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ এস সি/ সমমান পাস। যোগাযোগঃ 01715247336

প্রমত্তা শিবসানদী এখন গোচারণ ভূমি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি / ২১ বার দেখা হয়েছে
নিউজ আপঃ বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২, ২:২১ অপরাহ্ন

খুলনার পাইকগাছায় এক সময়ের প্রমত্তা শিবসানদী ভরাট হয়ে এখন গোচারণ ভূমি হয়েছে। পাইকগাছা পৌরসভা শিবসানদীর তীরে অবস্থিত।

গত এক দশকে শিববাটি সেতু থেকে হাঁড়িয়া পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার নদীর বক্ষ ভরাট হয়ে সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। পৌর সদরসহ নদীর তীরবর্তী অঞ্চল জোয়ারে সময় প্লাবিত হচ্ছে। স্থানীয়রা নদী খননের দাবি জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

একসময় এ নদীতে নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করতো। কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার মানুষ নৌপথে যাতায়াত ছিলো। প্রভাবশালীরা নদী ভরাটী জমি দখল করে মাছের ঘের করায় এর পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। নদীর মাঝখানে সরু খাল থাকলেও জোয়ারের সময় সামান্য পানি থাকায় নৌকা চলাচল করলেও ভাটার সময় চারণ ভূমি।

এ নদীর মাঝি শামসু জানান, তিনি মাঝে মধ্যে নৌকায় বিভিন্ন স্থান থেকে মালামাল নিয়ে এই নৌপথ দিয়ে পাইকগাছা পৌরসভা বাজারে আসেন। জোয়ারের সময় আসতে পারলেও ভাটার সময় নৌকা আটকে যায়। সে সময় জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাতে খরচ অনেক বেশি হয়। নৌপথ বন্ধ হওয়ায় নদী কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।

পাইকগাছা নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাড. প্রশান্ত মন্ডল বলেন, পাইকগাছার ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে কপোতাক্ষ-শিবসা নদ-নদীর অবদান রয়েছে। কপোতাক্ষ খনন কাজ চললেও শিবসা খননে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শিবসানদী দিয়ে এক দশক আগে উপজেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহজে মালামাল আনা-নেওয়া যেতো। নাব্যতা হারিয়ে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নৌপথ কেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে।

অপর দিকে ব্যবসায়ী পীযুষ সাধু বলেন, পাইকগাছার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের যাতায়াতে এই নদীর ভূমিকা রয়েছে। গত কয়েক বছরে নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

অপর ব্যবসায়ী মো. জলিল বলেন, কয়েক বছর আগে নৌপথ দিয়ে মালামাল আনা-নেওয়া গেলেও এখন সে উপায় নেই। সড়কপথে পণ্য পরিবহণে খরচ বেড়েছে। নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এলাকার প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে মাছের ঘের করছেন। পাশাপাশি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকজন স্থানীয়রা বলেন, নদী ভরাট শুরু হয়েছে গত ১০ বছর আগে।

এ সময়ের মধ্যে কিছু প্রভাবশালী নদীর জায়গা বাঁধ দিয়ে মাছ ও ধান চাষ করছেন। এভাবে চললে হয়তো ভবিষ্যতে নদীর অস্তিত পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। ফলে ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে নদী খননের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। খননের জন্য বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ জনপ্রতিনিধিদের।

পৌরসভার প্যানেল মেয়র শেখ মাহবুবর রহমান রঞ্জু বলেন, নদী খননের জন্য বিভিন্ন মহলে দাবি জানানো হয়েছে। মানববন্ধন সহ স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে পৌরসভা সরকারী স্লুইস গেট দিয়ে জোয়ারে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় শিববাটীসহ আশ-পাশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে বহু বাড়ী ও উঠান সহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গাইড ওয়াল ঝুঁকিতে পড়েছে।

লবন পানি আবসিক এলাকার বাড়ি ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তেমনি নির্মাণাধীন প্রকল্প গুলো পানির প্রকোপে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. আশরাফুল আলম বলেন, নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যায় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি টাকা। দ্রুত প্রকল্পটি একনেকে পাঠানো হবে।


এই বিভাগের আরও খবর....

Google Sponsored Ads

এক ক্লিকে বিভাগের খবর