বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শিরোনামঃ
মানবাধিকার শীর্ষক আলোচনা সভা- ২০২৪ বিশ্বে দ্রব্যমূল্য কমলেও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশে বৃদ্ধির রেকর্ড কলাপাড়ায় হতদরিদ্রদের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ।। নোয়াখালী বেদে পল্লী হইতে দুই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদ্প্তর কলাপাড়ায় জাতীয় বিজ্ঞান মেলা, ৮ম  বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান সকল সরকার সীমান্ত হত্যাকে প্রশ্রয় দিয়েছে : মোমিন মেহেদী সামাজিক ও আইনি বিষয়ক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন-২০২৪ কুয়াকাটা হবে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র- প্রতিমন্ত্রী মহিব রাজশাহীতে হামলা ও জমি দখলমুক্ত করার প্রতিবাদে দাবিতে সংবাদ সম্মেলন সামাজিক ও আইনি বিষয়ক মানবাধিকার সংস্থার কম্বল পেয়ে খুশি ৫০ টি পরিবার
নোটিশঃ
দেশব্যাপি জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি আবশ্যক। নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচ এস সি/ সমমান পাস। যোগাযোগঃ 01715247336

১লা জুন চালু হচ্ছে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি যাত্রীবাহী মিতালি এক্সপ্রেস

চিলাহাটি (নীলফামারী) প্রতিনিধি / ২৮৭
নিউজ আপঃ শনিবার, ২৮ মে, ২০২২, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

ঢাকা থেকে নিউজলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) আন্তঃদেশীয় মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি আগামী ১লা জুন থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হলদিবাড়ী-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে চলাচল শুরু করতে যাচ্ছে।

ট্রেনটির প্রথম যাত্রা হবে ভারতের পশ্চিম বাংলার উত্তর বঙ্গের শিলিগুড়ি শহরের নিকট নিউ জলপাইগুড়ি (এনজিপি) ষ্টেশন হতে। বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি ও ভারতের কুচবিহার জেলার হলদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে এই রেল যোগাযোগ চালু হচ্ছে এবং তা চলবে ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে।

গত বছর ২৭ শে মার্চ এই ট্রেনের উদ্ভোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে করোনা পরিস্থিতির কারনে এই রেল পথে ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। আগামী ১ লা জুন বাংলাদেশের রেল মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও ভারতের কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ভার্চুয়ালি মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা উদ্ভোধন করবেন ভারতের দিল্লি থেকে।

ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ির দুরত্ব ৫৯৫ কি.মি। এর মধ্যে ভারতের অংশে ৬৯ কি.মি.। মিতালি এক্সপ্রেস ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ছাড়বে ১লা জুন বুধবার দুপুর ১২.১০ মিনিটে। চিলাহাটি এসে ট্রেনটি ৩০ মি. যাত্রা বিরতি দিয়ে ঢাকা ক্যান্টম্যান্টে পৌছবে রাত ১০.৩০ মিনিটে। পরের দিন ২ রা জুন বৃহস্পতিবার মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা সেনানিবাস ষ্টেশন থেকে রাত ৯.৫০ মি: ছেড়ে আসবে এবং চিলাহাটি থেকে ৩ জুন ভোর সাড়ে ৫ টায় ছেড়ে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি পৌছবে সকাল ৭ টা ৫ মিনিটে।

ট্রেনটি ভারত থেকে সপ্তাহে রবিবার ও বুধবার এবং বাংলাদেশ থেকে সোমবার ও বৃহস্পতিবার চলাচল করবে। ট্রেনটি দিনের বেলায় ৪৫৬ আসন এবং রাতে ৪০৮ আসন নিয়ে চলাচল করবে। মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনে থাকছে ১০ টি তাপানুকুল কোচ এর মধ্যে ৮ এসি ফাস্টক্লাস ও এসি চেয়ার কোচ বাকি দুইটি জেনারেটর ও ব্রেকআপ ভ্যান থাকবে। ৫ বছর পর্যন্ত অপ্রাপ্ত বয়ষ্কদের জন্য মূল ভাড়ার ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ৫ বছরের কমবয়সী যাত্রীর ক্ষেত্রে ২০ কেজি ওজনের মালামাল বহন করতে পারবে। ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ভ্রমন কর সহ ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে, এসি বাথ ৪৯০৫ টাকা, এসি ছিট ৩৮০৫, এসি চেয়ার ২০৭৫ টাকা, চিলাহাটি থেকে নিউ জলাপাইগুড়ি ১২৫০ টাকা।

ইতিমধ্যেই এই ট্রেনের ঢাকা- চিলাহাটি-শিলিগুড়ি (এনজিপি) টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে।
ঢাকার কমলাপুর রেল ষ্টেশন ও চট্রগ্রাম রেল ষ্টেশনে টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে গত ২৩ মে/২০২২ থেকে এবং শুক্রবার ২৭ মে থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি রেলস্টেশনে চিলাহাটি- শিলিগুড়ি অর্থাৎ নিউজলপাইগুড়ির টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। আপাতত পাসপোর্ট ভিসা দেখিয়ে টিকেট কাটা যাবে।

ভারতের অংশে টিকিট মিলবে কলকাতা শিয়ালদাহ টার্মিনাল, ফেয়ারলী প্যালেস ও নিউ জলপাইগুড়ি ষ্টেশনে।

মিতালি এক্সপ্রেস ট্রেনে চিলাহাটি তথা উত্তরাঞ্চলের জন্য আলাদা দুইটি কোচ বরাদ্দ থাকবে, এই কোচ দুইটিতে ১০০ টি আসন থাকবে। উত্তরাঞ্চলের পাসপোর্ট ধারী যাত্রীরা চিলাহাটি থেকে ভ্রমন করতে পারবেন। ভারত সরকারের প্রোটকল অনুসারে ভ্রমনকারী যাত্রার ৭২ ঘন্টা আগে আরপিসিআর কোভিড টেষ্ট কিংবা দুই ডোজ টিকা গ্রহনের সনদ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের এই রুটে ট্রেন চলাচল করতো ব্রিটিশ আমল থেকে, ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর মালবাহী গাড়ি ও পাসপোর্ট ধারী যাত্রীদের নিয়ে একটি ট্রেন চিলাহাটি-হলদিবাড়ীর মধ্যে যাতায়াত করতো, ১৯৬৫ সালে যুদ্ধের সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। এর পরেও ইমিগ্রেশন কাষ্টম চালু ছিল পাসপোর্ট ধারী যাত্রীদের জন্য, কিন্তু ২০০৪ সালে ভারত সরকার তা বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর আবার সেই বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন যোগাযোগ চালু হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ী এলাকার মানুষ আজ আনন্দিত, এই ট্রেন চালু হলে দুই দেশের সর্ম্পক আরো গভীর হবে এবং দুই দেশের মানুষ যাতায়াতের মাধ্যমে দেখা সাক্ষাত মিলবে, গড়ে উঠবে গভীর সম্পর্ক। তাছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের একটি দাবী পুরন হতে যাচ্ছে, তাই দুই দেশের সীমান্তে মানুষের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর....
এক ক্লিকে বিভাগের খবর